মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয় সমীপে মুক্তির খোলা চিঠিঃ

মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয় সমীপে মুক্তির খোলা চিঠিঃ

মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয় সমীপে মুক্তির খোলা চিঠিঃ

মহোদয়,

যথাযোগ্য মর্যাদা ও সন্মান পুরঃসর বিনীত নিবেদন এই যে, আমি জন্মসূত্রে একজন বাংলাদেশি জাতীয় কন্ঠশিল্পী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। ইউনিক গ্রুপের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ নূর আলীর ব্যক্তিগত সচিব থাকাকালীণ ২০০২ সালে জামাত বি এন পি জোট সরকারের অবৈধ আস্তানা "হাওয়া ভবনের" ভূয়া মামলা ও নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হই এবং মালদ্বীপে এসে একটি স্কুলে শিক্ষকতা শূরু করি।

আমার চির স্বভাবজনিত দুর্বিনীত প্রতিবাদী মানসিকতার কথা স্বয়ং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং বর্তমান সরকারের বহু নেতা/মন্ত্রীগণ অবহিত রয়েছেন। আওয়ামী লীগ অফিসে বঙ্গবন্ধুর গানের মুক্তি নামেই সর্বজনবিদিত।

আওয়ামী রক্ত তাই প্রবাসে এসেও নীরব থাকতে পারিনি; যে দেশে প্রবাসীদের রাজনীতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ সে দেশে আমি মুক্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলাম মালদ্বীপ আওয়ামী লীগ।

মালদ্বীপস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ( সাবেক হাই কমিশন) এর সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী হিসেবে বহু লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছে।

Image may contain: 1 personএমন কি এতদবিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জেনারেল আবেদীন, সাবেক মন্ত্রী কর্নেল ফারুক, আব্দুস সোবহান গোলাপ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, জয়নাল হাজারী, শামীম ওসমান, জুনায়েদ আহমেদ পলক ও ডঃ দীপুমনিও অবহিত আছেন।

মালদ্বীপ আওয়ামী লীগের অনেক অনুষ্ঠানেই বহু মন্ত্রী ও মান্যবর সাবেক হাই কমিশনার রিয়ার এডমিরাল আওয়াল সাহেবও যোগদান করেছিলেন । ভিডিও ও ছবি প্রমানবহন করে (ছবি সংযুক্ত )


মালদ্বীপ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ২০১৪ সালে ইস্কান্দার স্কুলে জাতীয় শোক দিবস পালনের আয়োজন করেছিলাম । সে অনুষ্ঠান করতে দেয়নি হেড অফ দি চ্যাঞ্চেরী হারুন অর রশিদ।


আমি মালদ্বীপের মহামান্য প্রেসিডেন্ট ডঃ ইয়ামীন মাওমুনের একটি অনুষ্ঠানে তাঁর সামনেই ছিলাম।


হঠাত একটি ফোন এলোঃ

*******************

ঃহ্যালো আমি হেড অফ দি চ্যাঞ্ছেরী হারুন অর রশিদ বলছি;

ঃকে মুক্তি সাহেব বলছেন?

ঃজ্বি

ঃশুনেছি আপনি ১৫ই আগষ্ট পালন করছেন আপনার ইস্কান্দার স্কুলে?

ঃজ্বি আমার সব অনুষ্ঠান তো ইস্কান্দার স্কুলেই হয়ে থাকে।

ঃআপনি এ অনুষ্ঠান করতে পারবেন না; ঐ দিন হাই কমিশন থেকে অনুষ্ঠান করা হবে সূতরাং আপনার অনুষ্ঠান বন্ধ করতে হবে;

ঃআমি এ মুহূর্তে কথা বলতে পারছি না; আমি প্রেসিডেন্টের সামনে কাজেই পড়ে কথা বলছি;

ঃআপনি বুঝতে পারছেন তো যে হাই কমিশন আপনাকে কল করেছে?

******************

মালদ্বীপের রাজধানী মালে ইস্কান্দার স্কুলে আমি মুক্তি যে হলটিতে পররাষ্ট্র প্রতি মন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, প্রবাসী কল্যান ও জনশক্তিমন্ত্রী ইঞ্জিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন দেরকে সংবর্ধনা দিয়েছি, সে হলেই আয়োজন করেছিলাম জাতীয় শোক দিবস ২০১৪।


সে অনুষ্ঠানের অপরাধেই আমার মালদ্বীপের সোনালী দিনগুলো ১৫ই আগস্টের চেয়েও ভয়াবহ করে তুলেছিল এই হারুন অর রশিদ, হেড অফ দি চ্যাঞ্ছেরী এবং সাবেক হাই কমিশনার রিয়ার এডমিরাল আওয়াল।

********

মালদ্বীপে আমার হাতে গড়া আওয়ামী লীগের ছেলেদের ভয় ভীতি দেখিয়ে দেশে পাঠিয়ে দিয়ে আমাকে পঙ্গু করে দেয়া হল। তারপরেও হারুন অর রশিদ সাহেবের খায়েশ মিটেনি। সে মালে অবস্থানরত তার পোষা দালাল আদম ব্যবসায়ী, গাঞ্জা ব্যবসায়ী, ডলার ব্যবসায়ীদের একটি গ্রুপ নিয়ে চলে এবং সীমাহীন দুর্নীতি লুটপাট করে বেড়ায়। এখানে অতিরঞ্জিত কিছুই লিখছি না। প্রমান সহই দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রেরণ করেছি আমি তদন্ত চাই। অতি সম্প্রতি সে ঐ একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছে। আমাকে টেলিফোনে মারধর করার হুমকি দিয়েছে। বিষয়টি মালদ্বীপ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।


মালদ্বীপ দূতাবাস কর্তৃক আয়োজিত মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন হয়ে গেল। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে বাংলাদেশ দূতাবাস গত ২১শে ফেব্রুয়ারি এবং স্বাধীনতা দিবসে একজন ভারতে প্রশিক্ষণ নেয়া মুক্তিযোদ্ধা, জাতীয় কন্ঠশিল্পী ও মালদ্বীপ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, মালদ্বীপ সরকারের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিক্ষক (আমি নিজে ), একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মালদ্বীপে কর্মরত ৩৩ বছরের সিনিয়র ফিজিক্সের শিক্ষক আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মীর সাইফুল ইসলাম এবং আর একজন ২৫ বছর যাবত মালদ্বীপে শিক্ষকতায়রত গজল সঙ্গীত শিল্পী মালদ্বীপের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সর্বজনবিদিত শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলাম।


এই তিন জন শিক্ষকের কাউকেই মহান স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মালদ্বীপস্থ দূতাবাস নিমন্ত্রণ করেন নি। বিষয়টি মালদ্বীপের মন্ত্রণালয় ও প্রেসিডেন্ট হাউসের কর্মকর্তাদেরও নজরে এসেছে। এ দেশে বাংলাদেশী এই তিনজন শিক্ষকই অত্যন্ত দক্ষতার কারনে এবং বিশেষ করে শফিক ও আমি গানের কারনে প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে কোন মন্ত্রী, ধনিক ব্যবসায়ী, বর্ণাঢ্য বণিক শিল্পী ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার কেউ নেই যে আমাদের এই তিনজনকে না চিনেন বা না জানেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে স্বাধীনতা দিবসে আমন্ত্রণ না করার হেতু একটাই হতে পারে যে দেশ আজো স্বাধীন হয়নি অথবা এই দূতাবাস পাকিস্তানের অথবা এই দূতাবাসে মহান স্বাধীনতার স্বপক্ষের কোন কর্মকর্তা কর্মচারী নেই।


মহান স্বাধীনতা দিবসে কেন আমাদের দূতাবাস নিমন্ত্রণ করেনি? আমরা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিভাগীয় মাননীয় মন্ত্রী হিসেবে আপনাকে অবহিত করলাম।

আমরা জাতীয় সম্পদ। আমাদেরকে জাতীয়ভাবেই অপমান করা হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই। কারন জানতে চাই।


মহানুভব, পররাষ্ট্রনীতি ও কুটনৈতিক বিশেষজ্ঞ হিসেবে খ্যাত আপনার সমগ্র জীবনের লব্ধ অভিজ্ঞতা আজ পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রশাসনিক জটিলতা সমস্যাদি সমাধান ও বিদেশের সাথে পারস্পরিক সুসম্পর্ক স্থাপনে আপনার সততা শ্রম ও সফলতার সূত্র ধরেই আজ সুবিচারের প্রত্যাশায় আপনাকে অবহিত করলাম। যদি বাংলাদেশ সরকার মনে করে আমি বাঙ্গালী নই, বাংলাদেশী নই-আমার পাসপোর্ট বাংলাদেশ সরকার জব্ধ করতে পারে, আমার কোন আপত্তি নাই। কিন্ত এ অপমানের বোঝা নিয়ে বাঙ্গালী হিসেবে আর মালদ্বীপে পরিচয় দিতে চাইনা। প্রয়োজনে পাসপোর্ট পুড়িয়ে শরণার্থী হয়ে যাবো যেমনটি হয়েছিলাম ১৯৭১ সালে ভারতে আশ্রয় নিয়ে।

ভালো থাকুক দেশের মানুষ ভালো থাকুক শেখ মুজিবের নিরস্পেষিত নির্যাতিত লাঞ্ছিত বঞ্চিত অবহেলিত চির দুখি চির সংগ্রামী বাঙ্গালী জাতি।

আল্লাহ আপনার ভালো করুন;

দেশ আরো এগিয়ে যাক, আরো উন্নয়ন ঘটূক, উত্তরোত্তর বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ খ্যাত স্বীকৃতিকে ডিঙ্গিয়ে উন্নত দেশের তালিকায় লিপিবদ্ধ হোক;


জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু

আপনার একান্ত ভক্ত অনুরাগী

মোকতেল হোসেন মুক্তি

বীর মুক্তিযোদ্ধা জাতীয় কন্ঠশিল্পী

সিনিয়র সঙ্গীত শিক্ষক

ইস্কান্দার স্কুল মালে, মালদ্বীপ

Monday, June 5, 2017

বিগত আট বছরে দেশ-বিদেশে প্রায় দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

বিগত আট বছরে দেশ-বিদেশে প্রায় দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। গতবছর রেকর্ড ৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৩১ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। ৫ কোটি মানুষ নিন্মবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত শ্রেণীতে উন্নীত হয়েছে। ' - টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার পরিচালনার ৩ বছর পূর্তিতে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে দেশের অর্থনীতি এখন ঊর্ধ্বমুখী। দেশের শ্রম্বাজার বাজার দিনে দিনে প্রসারিত হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা এবং বিশ্বব্যাংক প্রতিবেদন বলছে, সামনের বছরগুলোতে এই বৃদ্ধির হার আরও আশাব্যঞ্জক হবে। বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে ভোগ্যপণ্য উৎপাদন, বিপণন প্রতিষ্ঠান, আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা-প্রশাসনিক খাতে, কৃষি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, পর্যটনশিল্প, আবাসন, স্বাস্থ্য ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বেড়েছে। কাজের সুযোগ বেড়েছে টেলিযোগাযোগ খাত, পোশাকশিল্প, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানে। বাংলাদেশে আরেকটি বিকাশমান ক্ষেত্র হচ্ছে ওষুধশিল্প।
দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতে আওয়ামী লীগ সরকারের সামনে ছিল অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এখন এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প-২১ সামনে রেখে নানামুখী অর্থনৈতিক কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। রূপকল্প-২১ বাস্তবায়নে বাজেটে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া হয়।

বাংলাদেশ সরকারের ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন পর্যালোচনা প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, ২০১০-১১ থেকে ২০১২-১৩ অর্থবছরে দেশের ভেতরে নতুন সাড়ে ৪৭ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। বিদায়ী বছরগুলোতে অর্থনীতির প্রধান সূচকে ইতিবাচক ধারা বজায় ছিল। বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ সফরে এসে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “ বাংলাদেশ তর তর করে এগিয়ে যাচ্ছে। এখন সময় এসেছে উচ্চাভিলাষী হবার। আমি খুবই আশাবাদি। আমি বাংলাদেশের বাসিন্দাদের বলতে চাই, বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। নিউ এশিয়ান টাইগার হবে বাংলাদেশ।“
২০১৬ সালে দেশের মানুষের মাথা পিছু আয় বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৪৬৬ ডলারে এবং বিগত অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি অর্জনের হার প্রথমবারের মত ৭ শতাংশে উপরে উঠে আসে। দেশি ও বিদেশি বিনয়োগের পরিমাণ ছিল আশানুরূপ। দেশের ব্যাংক ও আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান থেকে স্বল্প সুদে ঋণ গ্রহণের সুযোগ থাকায় বেসরকারি খাতের সমৃদ্ধি ঘটেছে। এ সময়ে সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রচেষ্টা অব্যাহত ছিল। কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা

গত জুনে (২০১৬) অর্থবিভাগ থেকে প্রকাশিত আগামী ৩ বছরের জন্য মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি-বিবৃতি শীর্ষক প্রতিবেদন দেখা গেছে, ২০১৬-১৭, ২০১৭-১৮ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কর্মসংস্থানের জন্য ৬ দফা কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে -
১। পরিকল্পনাগুলো হলো আত্মকর্মসংস্থান ও ব্যক্তি উদ্যোগের স্বতঃস্ফূর্ত বিকাশকে উৎসাহিত করে বেকারত্ব দূর করা।
২। ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা।
৩। বিদেশের শ্রমবাজারকে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য উপযোগী করা।
৪। প্রয়োজনে কূটনৈতিক তত্পরতা বাড়ানো।
৫। বিভিন্ন দেশে নতুন নতুন দূতাবাস খোলা এবং
৬। সরকারি খাতে নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের পেশাগত উৎকর্ষ সাধনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া।
বর্তমান প্রতিষ্ঠানগুলোর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রতিবন্ধী ও নারীবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। অর্থের জোগান সহজ করতে সরকার জাতীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিল গঠনের পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতে শিল্পোদ্যোক্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সক্রিয় সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব ছাড়া শুধু সরকারি উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ফল নিয়ে আসতে পারবে না। শিল্পে আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিশ্চিত করতে দেশিবিদেশি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের জন্য পণ্যের বৈচিত্র্য এবং বাজার সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, উন্নয়ন সহযোগীরা ভবিষ্যতেও দক্ষতা উন্নয়ন, নিয়োগযোগ্যতা বৃদ্ধি ও শোভন কর্মপরিবেশ সৃষ্টিতে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

ব্যবসা-বানিজ্য ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ
কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ, মূলধন ব্যয় কমানো, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সব বিষয়ে নিরলসভাবে কাজ করছে সরকার। দেশে বিনিয়গের পরিবেশ আগের তুলনায় ভালো হয়েছে বলতে হবে। গত বছর বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের হার ছিল গত কয়েক বছরের মধ্যে সব থেকে বেশি। গত বছর ২ বিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে। দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে, নতুন সংযোগ দেওয়া দ্রুততর হয়েছে। উদ্যক্তাদের জন্য ঋণের উপর সুদ হার কমানো হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ডুয়িং বিসনেস (২০১৬) ও বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বিষয়ে প্রতিবেদনে (২০১৭) বাংলাদেশের অবস্থান স্থিতিশীল ছিল। বাংলাদেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগের আঞ্চলিক কেন্দ্র হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েনচাই ঝাং।
ঋণ কার্যক্রম
২০১৬ সালের (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) সময়ে মোট এক লাখ ৭ হাজারের বেশি নতুন উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়েছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এসব উদ্যোক্তাদের মাঝে ১ লাখ ১ হাজার ১৯২ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১১ হাজার নতুন নারী উদ্যোক্তা ৭৮৫ কোটি টাকা ঋণ পেয়েছেন। স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন (এলজিআরডি) ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ) দেশের ৫২ টি জেলার ৪০৩টি উপজেলায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠির মাঝে ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ ও আদায় কার্যক্রমের মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ লাখ মানুষকে স্বাবলম্বী করেছে। চলতি অর্থবছরে পিডিবিএফ ১ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের পরিকল্পনা নিয়েছে। 
সামাজিক নিরাপাত্তা কর্মসূচি
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসুচির আওতায় গ্রামীণ জনগণের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষে সরকার বিগত অর্থ বছরে ১৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছিল। ২০২০ সাল নাগাদ দারিদ্র্যের হার ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে নেওয়া বর্তমান সরকারের প্রথম মেয়াদে ২০১১ সালে এক হাজার ১৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে বাড়িয়ে ৮ হাজার ১০ কোটি টাকা করে তৃতীয়বারের মতো একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের পরিধি আরো বিস্তৃত করে এখন দেশের ৬৪ জেলার ৪৯০ উপজেলার চার হাজার ৫৫০টি ইউনিয়নের ৪০ হাজার ৯৫০টি ওয়ার্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। যুব সম্প্রদায়ের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন ৬৪ উপজেলায় ন্যাশনাল সার্ভিস প্রোগ্রাম সম্প্রসারিত হতে যাচ্ছে। দরিদ্র প্রবন ৬৪ উপজেলায় ন্যাশনাল সার্ভিস প্রোগ্রাম ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম পর্যায়ে সম্প্রসারিত হবে। এর আওতায় ২০১৭ সালের মে মাস থেকে শিক্ষিত বেকার যুবকদের ৩ মাসের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে এবং প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থী দৈনিক ১শ’ টাকা করে ভাতা পাবেন।
গ্রামীণ নারীদের কর্মমুখী প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য ২৩৭ কোটি ব্যয় ধরে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এই প্রকল্পটি মেয়াদ ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। গ্রামীণ নারীরা এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ পাবে।


অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা
এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি ও দেশকে উচ্চ-মধ্যম আয়ের পর্যায়ে উন্নীত করার প্রচেষ্টায় মোট ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে সরকারী ও বেসরকারীভাবে অনুমোদিত মোট ৩৭টি অর্থনৈতিক অঞ্চল রয়েছে। এ ছাড়া অনুমোদনের অপেক্ষায় অন্তত আরও ৩১টি অর্থনৈতিক অঞ্চল। 
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং বিভাগ মিলিয়ে ৪০টির বেশি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরনের কারিগরি দক্ষতা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ পরিচালনার সাথে যুক্ত আছে। পাবলিক খাতের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সরকার বেসরকারি এবং এনজিও পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক এবং অন্যান্য পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছে। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সংস্কারের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন ও নিয়োগযোগ্যতা বৃদ্ধিতে সরকার বিভিন্ন স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ২০১০ সাল থেকে স্কিল এন্ড ট্রেনিং এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট (এসটিইপি) বাস্তবায়ন করে চলেছে। সরকারি এবং বেসরকারিসহ সবধরনের কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে প্রশিক্ষণের মান উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এছাড়া প্রশিক্ষণের মান দেশীয় এবং অন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য, বাজারমুখী এবং সবার জন্য সহজলভ্য করার উদ্দেশ্যে ২০১৩ সালে বাংলাদেশ স্কিল ফর এমপ্লয়মেন্ট এন্ড প্রোডাক্টিভিটি প্রকপ্ল (বি-এসইপি) হাতে নেয় যা ২০১৮ সাল পর্যন্ত চলবে। এছাড়াও এডিবি ২০১৪ সাল থেকে বেসরকারি খাতের চাহিদা মাথায় রেখে দক্ষতা উন্নয়ন লক্ষ নির্ধারণ করে প্রশিক্ষণ স্কিল ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম পরিচালনা করে আসছে।
তথ্যপ্রযুক্তি খাত

তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন সেবা একটি বিকাশমান খাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেশের তরুণ প্রজন্ম বেশ আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে এসেছে। বর্তমানে ৮০০ এর উপরে নিবন্ধিত তথ্যপ্রযুক্তি ও সফটওয়ার প্রতিষ্ঠান কাজ করছে এবং ৩০ হাজারের বেশি তরুণ সংশ্লিষ্ট পেশায় নিয়োজিত রয়েছে। সরকার তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশ তরান্বিত করতে নানা ধরনের কর্মসূচি ও প্রণোদনার ব্যবস্থা রেখেছে। দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির লক্ষে সরকার এ বিষয়ে প্রশিক্ষণের উপর জোর দিয়েছে। সরকারের আইসিটি বিভাগ পরিচালিত লেভারেজিং আইসিটি ফর গ্রোথ, এমপ্লয়মেন্ট এন্ড গভরনেন্স, লার্নিং এন্ড আরনিং ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টে থেকে দেশের তরুণদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং বা বিপিও খাতে ২০২১ সালের মধ্যে প্রতিবছর ২ লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ । প্রতি বছর দেশে ১০ হাজার কম্পিউটার সায়েন্স স্নাতক তৈরি হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এদের মধ্যে অনেকেই গুগল, ফেইসবুক বা মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে। এছাড়াও বর্তমানে নির্মাণাধীন হাইটেক পার্ক, আই টি ভিলেজ এবং সফটওয়ার টেকনোলজি পার্কের কার্যক্রম শুরু হলে লক্ষাধিক তরুণের কর্মসংস্থান হবে।
বৈদেশিক শ্রমবাজার
সরকারে নেওয়া কার্যকর উদ্যোগের ফলে ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে মধ্য ডিসেম্বরে রেকর্ড ৭.২ লাখ কর্মী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে। অভিবাসন ব্যবস্থাপানার জন্য আওয়ামী লীগ সরকার বিভিন্ন আইনী পদক্ষেপ নিয়েছে যেগুলো দেশে এবং বহিঃবিশ্বে ব্যাপক ভাবে প্রশংসিত হয়েছে। সরকার অভিবাসন ব্যবস্থা সহজ করার লক্ষে স্মার্ট কার্ড প্রবর্তন, বিদেশ থেকে সহজে অর্থ প্রেরণ, শ্রম বাজার গবেষণা সেল গঠন, দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মী সৃষ্টির জন্য প্রশিক্ষণ এবং অভিবাসিদের জন্য স্বাস্থ্য সুবিধা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। সরকার নিয়োগদানকারী সংস্থাদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনা এবং অভিবাসন খরচ কমাতে সরকার ‘ওভারসীস এমপ্লয়মেন্ট এন্ড মাইগ্রেশন ল ২০১৩’ চালু করে।
প্রতিবছর একটি বড় জনগোষ্ঠী দেশের শ্রমবাজারে প্রবেশ করে, তাদের জন্য উন্নত ও সম্মানজনক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে যাবে সরকার। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সমীক্ষা অনুযায়ী, কোনো দেশে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশ হলে নতুন করে আড়াই লাখ লোকের কর্মসংস্থান হয়। আগামী অর্থবছর প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার সেই হিসাবে, আগামী অর্থবছরে প্রায় ১৮ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হওয়ার কথা। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার রূপকল্প-২০২১ সামনে রেখে অগ্রসর হচ্ছে। বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ পেরিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ সমৃদ্ধ, সুখী এবং উন্নত জনপদে পরিণত করার ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।

No comments:

Post a Comment